সুদ ও চক্রবৃদ্ধি মুনাফা: কোরআনুল কারীমের চূড়ান্ত নির্দেশ ও অর্থনৈতিক তাহকীক
বঙ্গানুবাদ ও সরল মর্ম:
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন কর, যদি তোমরা মুমিন হও। অতঃপর যদি তোমরা তা না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও। আর যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা কারো ওপর জুলুম করবে না এবং নিজেরাও জুলুমের শিকার হবে না।
বিস্তারিত আলোচনা ও শরয়ী তাহকীক:
কোরআনুল কারীমে সুদের বিরুদ্ধে যত কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, অন্য কোনো আর্থিক পাপের ক্ষেত্রে তেমন ভাষা ব্যবহার করা হয়নি। সুদের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে খোদ আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল ﷺ-এর পক্ষ থেকে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে (সূরা বাক্বারা: ২৭৮-২৭৯)।
সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার ফিকহী মূলনীতি:
- ১. রিবা আন-নাসিয়াহ (দেরির বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণ): ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ফিক্সড ডিপোজিট বা ঋণের সুদ ঠিক এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
- ২. রিবা আল-ফাদ্বল (সমজাতীয় পণ্যে কম-বেশি বিনিময়): স্বর্ণ, রৌপ্য, গম, বার্লি, খেজুর বা লবণের মতো ওজনি বা পরিমাপযোগ্য পণ্যের অসম বিনিময়।
ইসলামী অর্থনীতিতে ঝুঁকি ছাড়া নিশ্চিত লাভের নিশ্চয়তা দিয়ে মূলধনের অতিরিক্ত গ্রহণ জুলুম হিসেবে আখ্যায়িত। ব্যবসা যেখানে উৎপাদনশীলতা ও বরকত বৃদ্ধি করে, সুদ সেখানে শোষণমূলক অসমতা তৈরি করে।