সদাকাতুল ফিতর: খাদ্যদ্রব্য নাকি নগদ টাকা দিয়ে আদায় করা অধিক কল্যাণকর?
বঙ্গানুবাদ ও সরল মর্ম:
রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রতিটি স্বাধীন, দাস, পুরুষ, নারী ও ছোট-বড় মুসলিমের ওপর ফিতরা হিসেবে এক সা’ খেজুর কিংবা এক সা’ যব ফরজ করেছেন।
বিস্তারিত আলোচনা ও শরয়ী তাহকীক:
সদাকাতুল ফিতর আদায়ের ক্ষেত্রে পণ্যের বদলে সমমূল্য (কিমত/নগদ অর্থ) প্রদানের বিষয়ে ইমামগণের মধ্যে দুটি সুন্দর বিশ্লেষণ রয়েছে:
১. হানাফী মাযহাব ও হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রা.)-এর আমল: ইমাম আবু হানিফা (রহ.), উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) এবং হাসান বসরী (রহ.)-এর মতে ফিতরায় খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে নগদ টাকা প্রদান করা সম্পূর্ণ জায়েয এবং বর্তমান যুগে এটিই অধিক উত্তম। কারণ নগদ টাকা দ্বারা একজন দরিদ্র ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন মতো পোশাক, ওষুধ কিংবা যেকোনো খাদ্যের সংস্থান করতে পারে। হাদিসে বর্ণিত মূল উদ্দেশ্য হলো ঈদের দিনে অভাবীদের সচ্ছল ও আনন্দিত করা (আগনূহুম আনিত তাওয়াফ ফী হাজাল ইয়াওম)।
২. জমহুর ফুকাহায়ে কেরামের মত (শাফেয়ী, মালেক ও হাম্বলী): তাঁদের মতে সরাসরি হাদিসে উল্লেখিত খাদ্যদ্রব্য (গম, যব, খেজুর, কিসমিস) দিয়েই আদায় করা উত্তম। তবে সংকটের সময় নগদ টাকা দেওয়াও বৈধ।